গল্প: অদ্ভুতুড়ে স্বপ্ন

পূর্নিমার রাত। চারদিকে চাঁদের আলোয় এক অদ্ভুত মাদকতা ছড়িয়ে পড়ছে। রাকিবের চাঁদ দেখতে ভালো লাগে। বিয়ের আগে প্রতি পূর্নিমার রাতে সে সারা রাত ছাদে বসে জোৎস্না বিলাস করতো।

এক মাস আগে মা বাবার পছন্দ মতো স্নেহা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেছে রাকিব। স্নেহা চুপচাপ গম্ভীর স্বভাবের। বেশিরভাগ মেয়েরা চাঁদ দেখতে পছন্দ করলেও স্নেহা পছন্দ করে কিনা তা রাকিব জানে না।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছে রাকিব। বারান্দার গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে চাঁদের আলো মেঝেতে এসে পড়ছে। মেঝের দিকে হঠাৎ তাকাতেই সে দেখতে পেলো একটা ছায়ামূর্তি তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। রাকিব ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো স্নেহা তার পিছনে দাঁড়ানো।

রাকিব বিস্ময়ের সুরে বলল, "আমিতো বুঝতেই পারিনি তুমি কখন এসেছো?"

"টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে। মা বাবা আপনার অপেক্ষায় বসে আছেন। তাই আপনাকে ডাকতে এসেছি।" এই কথা বলেই স্নেহা চলে গেলো।

রাকিব আরো কিছুক্ষন বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে তারপর খাবার ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

রাতের খাওয়া শেষে রাকিব আবারো বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। সে ভাবলো স্নেহা রান্নাঘর থেকে আসলে তাকে নিয়ে চাঁদের আলো উপভোগ করতে ছাদে যাবে। 

অপরদিকে রান্নাঘর থেকে ফিরেই স্নেহা বিছানার এক কোনায় শুয়ে পড়লো। তার অনেক মাথা ব্যাথা করছে। প্রতি পূর্নিমার রাতেই স্নেহার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা শুরু হয় এবং একটা সময় তার কোনো কিছুই মনে থাকে না।

প্রায় ঘন্টাখানেক সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকার পর স্নেহার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রাকিব বারান্দা থেকে রুমে ঢুকে দেখলো সেখানে কেউ নেই। তারপর সে রান্নাঘরে গেলো স্নেহাকে খুঁজতে। সেখানে গিয়ে যখন কাউকে দেখতে পেলো না তখন রাকিব স্নেহাকে ডাকা শুরু করলো। কিন্তু কোনো উত্তর পেলো না। সে একবার ভাবলো মা বাবার রুমে যেয়ে তাদের জিজ্ঞেস করবে স্নেহাকে দেখেছে কিনা; পরে ভাবলো এতো রাতে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো ঠিক না। হঠাৎই রাকিবের বাসার সদর দরজার দিকে চোখ পড়লো। দরজার সিটকিনি খোলা। 'স্নেহা তাকে কিছু না জানিয়েই ছাদে চলে গেছে', ভাবলো রাকিব।

এক মুহূর্ত দেরী না করে সিড়ি দিয়ে দৌড়ে ছাদে গেলো রাকিব। ছাদে পৌছে সে দেখতে পেলো চাঁদের আলোতে একটা নেকড়ে জ্বলজ্বলে চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। 

নেকড়েটাকে দেখামাত্র ভয়ে অজ্ঞাণ হয়ে গেলো রাকিব। ঠিক এমন সময় কে যেনো ফিসফিসিয়ে তার কানের কাছে বলতে লাগলো এই রাকিব এই।

রাকিব একলাফ দিয়ে শোয়া থেকে উঠে দেখলো তার মা বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।

"কিরে সেই কখন থেকে তোকে ডাকছি অথচও তোর উঠার নাম নেই। সকাল দশটা বেজে গেছে এতো বেলা করে কেউ ঘুমায়", এই বলে তিনি রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। রাকিব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। কারন এতো বেলা তার সাথে যা ঘটেছে সবই স্বপ্ন ছিল। 


Post a Comment

Previous Post Next Post