কলেজের গেট থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পরে শান্তার মনে পড়ল সে ভুলে তার সাথে থাকা ছাতাটা ক্লাসরুমে ফেলে এসেছে।
শান্তা কপাল কুঁচকে হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে চারটা দশ বাজে। আর মাত্র পাঁচ মিনিট হেঁটে গেলেই সে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে যাবে। ট্রেন ছাড়বে সাড়ে চারটায়। এখন সে কলেজে ছাতা আনার জন্য ফিরে গেলে তাকে ট্রেন তাড়াহুড়ো করে ধরতে হবে।
এই ছাতাটা ফেলে রেখে আসলে তার হারিয়ে যাওয়া ছাতার সংখ্যা আরেকটা বাড়বে। তাই দেরী না করে সে আবার কলেজে ফিরে গেল।
ট্রেন ছাড়তে যখন মিনিট পাঁচেক বাকি তখন শান্তা দৌড়ে এসে ট্রেনের শেষ বগিতে উঠল। বসার জায়গা খুঁজতে গিয়ে শান্তা দেখল জানালার ধারে একটা বাচ্চা মেয়ে বসে আছে আর তার পাশের সিটটা ফাঁকা। সে সেখানে গিয়ে বসলো।
পু ঝিক ঝিক শব্দ করে ট্রেন দ্রুত ছুটে চলছে। ট্রেনের ঝাঁকুনিতে শান্তার ঘুম পাচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে সে দেখল তার পাশে বসা বাচ্চা মেয়েটি আনন্দের আতিশয্যে খোলা জানালা দিয়ে হাত বের করে বাইরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। আর তা দেখে বিপরীত দিকের সিটে বসা আরেকটি মেয়ে তাকে সম্ভাব্য বিপদ থেকে সাবধান করার জন্য বলছে, "এই, জানালার বাইরে হাত বের করে দিও না।"
তারপর শান্তা কিছুক্ষনের জন্য চোখ বন্ধ করল। এর মধ্যেই ঠাস করে কিছু একটা নিচে পড়ার আওয়াজ "ওমাগো ও রে মা" বলে চিৎকারের সাথে কিছু একটা ছিটে তার গায়ে লাগল। চোখ খুলতেই শান্তা দেখল পাশের বাচ্চাটার দুই হাত ভর্তি রক্ত আর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। ঐ রক্তই শান্তার জামা কাপড়ে ছিটে এসেছে। বিপরীত সিটে বসা মহিলা দুইজন বাচ্চাটিকে ধরে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছেন। আশেপাশের সিটে বসা উৎসুক যাত্রীরা তাদেরকে ঘিরে ধরেছেন। শান্তা তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে বাচ্চাটার রক্তাক্ত হাতে চেপে ধরার জন্য এগিয়ে দিল।
পরবর্তী স্টেশনে ট্রেন থামতেই আহত বাচ্চাটিকে নিয়ে মহিলা দুইজন নেমে গেলেন।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করে শান্তার গা গুলাচ্ছে। বাচ্চাটির পরিবর্তে তার যদি এই অবস্থা হতো সেটা ভেবে সে শিউরে উঠলো।
