দ্বিতীয় অধ্যায়
শানক মন্ডলের মৃত্যুর পর ভূয়াপুর মিশন কলেজের প্রাঙ্গণে নেমে আসে এক গভীর নিরবতা। রণক মন্ডল এবং শাপলা মন্ডল তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, তাদের সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে নিমজ্জিত হন। শানকের মৃত্যু তাদের জীবনের সব আলো কেড়ে নিয়েছিল।
শানকের মৃত্যুর পরে, পুলিশ শানকের ফোন এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু পুলিশ সব প্রমাণ সংগ্রহ করেও কিছুই খুঁজে পায় না যা তাদেরকে নিশ্চিত প্রমাণ দিতে পারে। পুলিশের অনুসন্ধান চলাকালীন, পুলিশ কর্মকর্তা জশিম মিয়া, যিনি শাপলা মন্ডলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রণক এবং শাপলার সাথে সমস্ত তথ্য শেয়ার করেন। তিনি তাদেরকে জানান যে, পুলিশ শানকের ফোন থেকে কিছু সন্দেহজনক মেসেজ পেয়েছে, কিন্তু সেগুলো যথেষ্ট প্রমাণ নয়।
শানকের আত্মহত্যাকে কারণ দেখিয়ে পুলিশ কেসটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় আর কোনো ক্লু না পেয়ে। কিন্তু রণক এবং শাপলার জন্য এই সমাধান গ্রহণযোগ্য ছিল না। তারা সিদ্ধান্ত নেন, তাদের সন্তানকে যারা এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, তাদেরকে শাস্তি দিতেই হবে। তারা জানতেন, আইনি প্রক্রিয়া তাদের জন্যে যথেষ্ট হবে না, কারণ সমাজের অনেক প্রভাবশালী মানুষ এই অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত।
শানকের স্মৃতিতে কান্নায় ভেঙে পড়া শাপলা বলেন, "রণক, আমরা এমন করে চুপ থাকতে পারি না। আমাদের কিছু করতেই হবে।"
রণক উত্তর দেন, "তুমি ঠিক বলছ, শাপলা। আমাদের শানকের জন্য ন্যায়বিচার আনতেই হবে।"
এই সিদ্ধান্তের পর, রণক এবং শাপলা নিজেদেরকে এক নতুন পরিচয়ে ঢেকে রাখেন। তারা মুখোশ পরেন এবং রাতের অন্ধকারে বের হন। তারা নিজেদেরকে "The Phantom Professors" নামে পরিচিত করেন।
প্রথমে তারা শানকের ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। রণক, যিনি প্রযুক্তিতে দক্ষ, তিনি শানকের ফোনের লুকানো ফোল্ডার গুলো চেক করেন। কিন্তু কিছু পায় নি। তাই সে ভাবলো এজন্যেই পুলিশ কিছু পায়নি। এর পর সে শানকের কম্পিউটার চেক করা শুরু করলো। সেখানে ছিল কিছু কল রেকর্ড, মেসেজ এবং কিছু ক্লাবের নাম। এই ক্লাবগুলো ছিল শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত, যেখানে LGBTQ সদস্যরা মেলামেশা করতো।
শানকের মেসেজগুলোতে উল্লেখিত একটি ক্লাবের ঠিকানায় প্রথমে তারা যান। রাতের অন্ধকারে তারা সেই ক্লাবে প্রবেশ করেন। ক্লাবের ভিতরে মাদক সেবন, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং আরও অনেক অবৈধ কাজ চলছিল। আর সেদিন ছিলো মাস্ক পার্টি। অর্থাৎ, মাস্ক পড়ে নাচাগানা। গেইট দিয়ে ঢুকতে হলে একটি বিশেষ কার্ড শো করে ঢুকতে হয়। যা তাদের কাছে নেই। মাস্ক তো তাদের কাছে ছিলোই। তারা ক্লাবের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে। সেটাও অনেক রিস্কের কাজ ছিলো, প্রথমে তাদের পুরো ক্লাবের মেইন সুইচ অফ করতে হয়। ফলে কারেন্ট চলে যায়। যখন সব অন্ধকার তখন তারা পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে।ওটা মুলত রান্না ঘরের সাথের দরজা। তারা রান্না ঘর পেরিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করে। পরে রণক সাহেব হাত ঘড়ির একটা বাটনে ক্লিক করতেই কারেন্ট চলে আসে আবার। কারেন্ট আসতেই প্রচণ্ড শব্দে ও বিটে গান শুরু হয়। ক্লাবে উপস্থিত সবাই উউউউউউ করে চিৎকার দিয়ে নাচানাচি শুরু করে। রণক এবং শাপলা গোপনে এই ক্লাবের সদস্যদের ছবি তোলেন।
তারা যে কায়দায় ক্লাবে ঢুকেছিলো সে কায়দায়ই বের হয়ে যায়। ক্লাবের ম্যানেজার অবাক হয়, এই প্রথমবার ক্লাবে দুইবার কারেন্ট চলে গিয়েছিলো।
ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসার পর, শাপলা বলেন, "এদের প্রত্যেককে শাস্তি দিতে হবে, রণক। এরা শানকের জীবন নষ্ট করেছে।"
রণক সাড়া দেন, "আমরা সেটা করবো, শাপলা। এরা কেউ আমাদের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না।"
এরপর তারা আরো কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালান এবং প্রতিটি ক্লাবের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের এই অনুসন্ধান চলতে থাকে এবং তারা জানতে পারেন যে, এই সব অপকর্ম ও ক্লাব পরিচালনা করে কিশোর রহমান। কিশোর রহমান একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যে শহরের অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দেয়।
কিশোর রহমান এসব ক্লাব থেকে আয় করে বিভিন্নভাবে। ক্লাব মেম্বারশিপ ফিস, পার্টি ফি, পার্টির জন্যে গেইট দিয়ে ঢুকতে আলাদা ফি, ভেতরে খাবার দাবার জন্যে আলাদা ফি, ড্রাগস বিক্রিও হয় সেখানে - তা'ও চড়া দামে কিনে খায় পোলাপানগুলো। ছেলেমেয়েরা পারেও বটে,অবশ্য সব বড়লোকদের পোলাপান, ছেলেমেয়ের খোজ রাখে নাকি! টাকা চায় আর দেয়। সেই টাকা দিয়ে কি করে, কোথায় যায় তার হিসেব রাখে নাকি!
রণক এবং শাপলা জানতেন, কিশোর রহমানকে ধরতে হলে তাদের আরও সাবধান হতে হবে। তারা একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং ধীরে ধীরে প্রতিশোধের পথে এগিয়ে যান। প্রথমে তারা কিশোরের কিছু সহযোগীকে টার্গেট করেন। কারণ কিশোর রহমান কে ধরতে হলে ওর সম্পর্কে আরো ভালো করে জানতে হবে। এজন্যে কিশোর রহমান এর সঙ্গীদের ধরে ওদের কাছ থেকে আরোও ভালো করে খোজ নেওয়া যাবে।
কিশোর রহমানের কোম্পানির নাম রহমানিয়া গ্রুপ। গুগলে সার্চ করে অনেক কিছু জানতে পারে। তখনই রহমানিয়া গ্রপ এর কর্তব্যরত এক ব্যাক্তির খোজ পায়,যে কিশোর রহমানের খুব প্রয়োজনীয় লোক।
এক রাতে, রণক আর শাপলা একটি ছোট ট্রাক ভাড়া করে রাতে নিয়ে বের হয়। কিশোর রহমান এর এক সহকারির বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা ব্লক করে ট্রাকটিকে রেখে দেয়। কিশোর রহমান এর সহকারীর গাড়ি আছে। নিজের নয়, কিশোর রহমানের অফিস থেকে তাকে দিছে। নিজেই চালায়। ড্রাইভার নেই। ড্রাইভার তো কিশোর রহমান এর মতো লোকের থাকে।
তো কিশোর রহমানের প্রয়োজনীয় লোকটা রাত করে বাড়ি ফিরছিলো। অফিস থেকেই বের হতে দেরি হয়েছে। অনেকদূর গিয়ে থেকে হঠাৎ সামনে একটি ট্রাক রাস্তা ব্লক করে রেখেছে। জোড়ে ব্রেক করলো, হর্ণ দিচ্ছে অনেকবার,অনেক জোড়ে জোরে হর্ণের শব্দ হচ্ছে। পাখিরা যেনো জেগে যাচ্ছে। কিছুদূরে কুকুর রাও ডেকে উঠলো। তারপর জানালা খোলে মাথা বের করে চেচিয়ে বলতে লাগলো, "আরে ট্রাকের ড্রাইভার কোথায়? রাস্তা কি কারোর বাবার নাকি?"
তখনই একজন বেলুন বিক্রেতা জানালার কাছে এসে বলতে লাগলো," সাহেব একটি বেলুন কিনে নিয়ে যান।"
রহমানিয়া গ্রুপের লোকটা হকচকিয়ে গেলেন। এতো রাতে বেলুনওয়ালা। সাথে সাথে বিরক্তও হলেন। সারাদিন অফিসের চাপ শেষে বাড়ি ফিরে একটু রেস্ট নিবে। আর রেস্ট নেওয়া রাস্তা ব্লক আবার বেলুনওয়ালা বেলুন নিয়ে এসেছে। সে ধমক দিয়ে বললো,"ধুর, এতো রাতে আসছো কোথা থেকে হ্যা!? যাও যাও দূর হও"
বেলুন বিক্রেতা বললো," একটা বেলুন নেন সাহেব।"
রহমানিয়া গ্রুপের লোকটা ধমকের সুরে বললেন ,"আরে আমার কোনো ছোট বাচ্চা নেই! বেলুন নিয়ে করবো টা কি? হ্যাঁ? যাও তো ভাই মাথা খেয়ো না আর। এমনেই সামনে থেকে ট্রাকটা সরছে না। বাড়ি ফিরতে হবে।"
এটা বলে প্রচণ্ড বিরক্তির সাথে আবারোও হর্ণ দিতে লাগলেন। কয়েকবার দিয়ে থামলেন তিনি। এই সুযোগে বেলুনওয়ালা যলদি বলে উঠলো," আপনি একটা বেলুন নেন সাহেব আমি সামনে গিয়ে ট্রাকটিকে দেখে আসছি। ব্যাটা মনেহয় ঘুমিয়ে গেছে।"
রহমানিয়া গ্রুপের লোকটা চোখ চিকমিক করে উঠলো বেলুনওয়ালার উপর খুশি হয়ে। সে একটা বেলুন নিলো আর বললো, " যাও আগে গিয়ে ট্রাকটা সরাও, সরিয়ে ওখানে দাড়াও। আমি গাড়ি নিয়ে এগিয়ে তোমাকে টাকা দিচ্ছি।"
বেলুনওয়ালার চোখও চকচকিয়ে উঠলো। একটা বেলুন দিয়ে সে ট্রাকের দিকে এগিয়ে গেলো।
রহমানিয়া গ্রুপের লোকটা বেলুন হাতে নিয়ে ভাবলো করবো টা কি এটা নিয়ে, আর জানালা লাগিয়ে দিলো। হঠাৎ বেলুনটি ফেটে গেলো। কিছুক্ষণের মধ্যে রহমানিয়া গ্রুপের লোকটার যে চোখ চিকমিক করে উঠেছিলো সে চোখে ঝাপসা দেখতে লাগলো, চোখ জ্বলতে লাগলো। চোখ টা যেনো চাইছে না খোলা থাকতে,প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে। কিন্তু তাকে তো গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে!
সে চোখ বন্ধ করতে করতে দেখলো ট্রাকটি এক সাইডে করে কে যেনো নেমে এদিকে আসলো। জানালার কাচ ভেঙে গাড়ি খুলে গাড়ি চালককে পেছনে বসালো তাকে ধরে ধরে। সে সোজা হয়ে দাড়াতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিলো পুরো পৃথিবীর ঘুম আজকে তার মধ্যে এসে পড়েছে। তার মাথা, তার শরীর প্রচন্ড ভার ভার লাগছিলো।
সে চোখ খুলে দেখে চারিদিকে অন্ধকার। সে মনে করতে পারছিলো না সে কোথায়। ধীরে ধীরে সব মনে পড়তে লাগলো। সে সব বুঝে যেতে লাগলো যে বেলুনওয়ালা বেলুনে অজ্ঞান হবার গ্যাস ভরে তাকে অজ্ঞান করে কিডন্যাপ করেছে। সে অজ্ঞান হবার পর তাকে পেছনে বসানো হয়। মাস্ক পড়া এক মহিলা পরে গাড়িটি চালিয়ে তাকে এখানে নিয়ে আসে। সে উঠতে গিয়ে দেখে একটি আন্ডার কন্সট্রাকশন বিল্ডিংয়ের ভেতর তাকে একটি চেয়ারে বেধে রাখা হয়েছে। অনেকখন অন্ধকারে থাকায় চোখে অন্ধকার সয়ে এসেছে।
বেলুনওয়ালা রণক ছিলো।
রহমানিয়ার কর্মচারী বুঝতে পারলো তার সামনে দুজন দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো," কারা তোমরা? আমাকে এখানে কেনো বেধে রাখা হয়েছে? কী চাই তোমাদের?"
রণক বললো," আহহা! চেচামেচি করবেন না দয়া করে। আমরা কানে শুনি ঠিকঠাক। আর এতোগুলো প্রশ্ন একসাথে কেনো? আর এখানে আমরাই প্রশ্ন করবো। আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে তবেই প্রশ্ন করবেন। "
রহমানিয়ার কর্মচারী বললো,"মাস্ক পরে মুখ ঢেকে রেখেছিস কেন?"
রণক একটু রাগান্বিত স্বরে বললো," আহহ! আবার চিৎকার।"
রণক তখন তার কাছে গিয়ে তাকে ইলেকট্রনিক শক দিলো। রহমানিয়ার কর্মচারী বুঝলো চেচিয়ে কোনো লাভ হবে না। সে বলে উঠলো, "আমি জানি না। প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও।"
শাপলা ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন, "তুমি জানবে। বলো, নাহলে এখানেই তোমার শেষ।"
রণক হেসে উঠলো," আহা! আমরা কিছু জিজ্ঞেসই করিনি। আপনি জানেন কি জানেন না সেটা পরে বুঝা যাবে! হা হা হা!"
রহমানিয়ার কর্মচারী ভয়ে কাপতে লাগলো।
রণক বললেন," তো শুরু থেকে শুরু করা যাক। আপনার নাম কী?"
রহমানিয়ার কর্মচারী বললো," অতীশ দিপ"
শাপলা বললো,"আমরা তাহলে সঠিক মানুষকেই ধরেছি।"
রণক বললো," হ্যাঁ, তো অতীশ সাহেব আপনি কোথায় জব করেন?"
" রহমানিয়া গ্রুপ "
"আমরা এই দুটি প্রশ্নের উত্তর জানতাম। তাও আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি। এখন আপনাকে যা জিজ্ঞেস করবো সেগুলোর উত্তর আমরা জানি না। সেসব প্রশ্নের উত্তর জানতেই আমরা আপনাকে এনেছি।"
"কী? কী? কী প্রশ্ন?", ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন অতীস দিপ।
" কিশোর রহমান। প্রশ্ন করছি না। আপনাকে একটি প্যারাগ্রাফ বলার জন্যে টাইটেল দিচ্ছি। কিশোর রহমানের সম্পর্কে যা জানো বর্ণনা করা শুরু করেন।"
"আমি... আমি কিছু জানি না"
"আহহা! অতিশ সাহেব। আপনি কি মনে করেছেন আমরা শুধু আপনার নাম আর আপনি কোথায় জব করেন শুধু সেটা জেনেই আপনাকে আমরা তুলে নিয়ে এসেছি? আমরা আপনার বাসার ঠিকানা,আপনার ওয়াইফ কোন ব্যাংকে জব করেন, আপনার মেয়ে কোথায় ম্যাস এ ভাড়া থাকে আমরা সব জানি। "
" আমার ওয়াইফ আর মেয়েকে কিছু করবেন না প্লিজ। ওরা....ওরা কিছুই জানে না.. ওরা কিছুই জানে না।",কান্না জড়ানো গলায় বললো অতীশ দিপ।
"আমরা চাইলে ওনাদেরও নিয়ে আসতে পারতাম। অনেক মাস যাবৎ আমরা আপনাকে অনুসরণ করছি। আমরা জানি ওনাদের কথা আপনাকে মনে করালেই আপনি আমাদের সসহোযোগিতার হাত বাড়াবেন। তাই ওনাদেরকে আর কষ্ট দেই নি।"
"ধন...ধন..ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আপনাদের" বললো অতীশ সাহেব। এখন আর কান্নায় ভরা কণ্ঠ আর নেই। কিন্তু ভীত গলা এখনো আছে।
" কিশোর রহমানের সম্পর্কে আমরা যা জানি তা হচ্ছে তিনি বিভিন্ন ক্লাব চালান। যেখানে মদ,গাজা ও প্রায় সবরকমের নেশা জাতীয় দ্রব্যই বিক্রি করে। রহমানিয়া ফাউন্ডেশন শুধু তার বাহিরের রুপ। রহমানিয়া ফাউন্ডেশন থেকে যা আয় করে তার থেকে কয়েকগুণ বেশি আয় করে অইসব ক্লাবের মাধ্যমে। এতোটুক বললাম কারণ এসব আপনার কাছ থেকে দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না। আমরা অনেক ক্লাবে ছদ্মবেশ এ ঘুরেছি,অনেক খবর নিয়েছি।"
"আমার কাছে তাহলে স্পেসিফিক কি তথ্য জানতে চান? এর বাইরে তো আর কিছু নেই। আমাকে ছেড়ে দেন।"
"আদও এর বাইরে আর কিছু নেই?"
"আমার জানামতে তো আর কিছুই নেই।"
রণক আরেকটি শক দিলো অতীশ সাহেবকে।
অতীশ সাহেব ব্যাথা মাখানো গলায় বললন," বলছি.. বলছি। রহমান সাহেব...রহমান সাহেব বিদেশি এলজিবিটিকিউ কমিউনিটি থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। অনেক টাকা। এদেশের কমিউনিটি বিল্ড আপ করার জন্য। মূলত এজন্যেই ক্লাবগুলো খোলা। নেশাজাতীয় দ্রব্য তো তার আলাদা ইনকাম।"
শাপলা আর রণক দুজন দুজনের দিকে তাকালো।
"আর কী জানেন?"
"আমি রহমানিয়া গ্রুপের ম্যানেজার। এর কাজ হচ্ছে ইম্পোর্ট-এক্সপোর্ট বিজনেস"
রণক হেসে বললেন,"যেটার সম্পূর্ণভাবে ধাপ্পাবাজি,বুজরুকি। তাইনা মশাই?"
"হ্যাঁ, এটা শুধু একটা পর্দা। ভেতরে ড্রাগ স্মাগলার, হিউম্যান ট্রাফিকিং এর মতো কাজ করা হয়।"
শাপলা তেমন কথা বলে না। ছেলে হারানোর পর আরোও না। আজকে রাতে মাত্র কয়েকবারই মুখ খুলেছিলো৷ এখন আবার খুললো। জিজ্ঞেস করলো," সে অইসব অবৈধ কাজ করছিলো তা না হয় বুঝলাম। তার আবার এলজিবিটিকিউ থেকে টাকা নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেনো? নাকি তারা মুলধন দেয় আর কিশোর এখানে তাদের কমিউনিটি বিল্ড আপ এর পাশাপাশি অন্যান্য ধান্দা শুরু করেছে?"
"না,এলজিবিটিকিউ তারা ড্রাগ বা হিউম্যান ট্রাফিকিং এর জন্যে মুলধন দেয় না। তারা শুধু তাদের কমিউনিটি বিল্ডিংয়ের জন্যে আর্থিক সাহায্য দেয়।"
রণিক ভুরু কুচকালো। অতীশ ঠিক কী বললো সেটা ভালো করে বুঝাতে বললো।
"এলজিবিটিকিউ রা মূলত টাকা দিয়ে তাদের কমিউনিটি বৃদ্ধি করতে চায়। তারা টাকা দেয় তখন যখন কেও নিতে বাধ্য বা বলা যায় কেও বিপদে পড়ে চাইছে। কিশোর রহমান ড্রাগ আর হিউম্যান ট্রাফিকিং এর ধান্দা আগে থেকেই ছিলো। মাঝে সে খুব টাকার সংকটে পড়েছিলো, বিভিন্ন ডন থেকে হুমকি আসা শুরু করেছিলো। জীবনের হুমকি আসা শুরু করেছিলো। তখন কিশোর কুমার এমন একটা সংকটে পড়েছিলো যে অন্যান্য ডন তাকে হেল্প করতে চাচ্ছিলো না। তখন কিশোর এলজিটিকিউ কমিউনিটির কাছ থেকে টাকার সাহায্য চায় ও পায়। তারা একটাই শর্ত দেয়। এদেশেও তাদের কমিউনিটি বিল্ড আপ করতে হবে। সুদসহ আসল টাকা ফেরত চাইলেও কিশোর এতোদিনে দিতে পারতো। কিন্তু সেটা তো তারা চায়নি। এটাই হচ্ছে এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির আসল চাল। এদিকে কিশোরও খুশি। টাকা দিতে হলো না, লাভই হলো। সে টাকার অন্ধ ভক্ত।", অনেকক্ষণ একসাথে কথা বলে হালকা হাপিয়ে গেছে। শাপলা রণকের হাতে পানির বোতল ধরিয়ে দিলো।
রণক বোতল অতীশের সামনে ধরতেই অতীশ হা করলো। প্রাণ ভরে পানি খেলো অতীশ। পানি খেয়ে আবার বলতে শুরু করলো," আপনারা হয়তো বুঝে গেছেন ইউ.এস আর ইউরোপ এটাই চায়। "
রণক বললো,"হ্যাঁ, অন্যান্য দেশের পুরুষ শক্তি রা এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে আর ওদের দেশের শক্তিরা সব শাসন করবে। এ হতে দেওয়া যায় না।"
অতীশ বললো,"আমাকে এখন যেতে দিন দয় কেরে। আমি বাড়ি ফিরতে চাই।"
" হ্যাঁ, হ্যাঁ। এখনই। আমাদেরও তো রেস্ট এর দরকার আছে। তবে একটা শর্ত।"
"আবার কিসের শর্ত!?"
" আপনিও এতোদিন টাকার জন্যে কিশোর এর হয়ে কাজ করেছেন। আজ আমরা আপনাকে এমন একটা তথ্য দিবো যেটা প্রথমে আপনি বিশ্বাস করতে চাইবেন না,পরে আপনার কষ্ট লাগবে। কিন্তু এখনো সময় আছে এই সমস্যাটা সমাধান করার। পরে হয়তো আপনি আমাদের উপর খুশিই হবেন। পরে আপনি যা ভালো মনে করেন। আমরা আশে পাশেই আছি আপনার। কিশোর এর বিরুদ্ধে লড়তে আর এ দেশ থেকে সমকামীর কমিউনিটি ধ্বংস করতে আমরা যেমন প্রস্তুত হচ্ছি, তেমনই ধীরে ধীরে আগাচ্ছিও। "
এটা বলে রণক একটা পেনড্রাইভ অতীশের বুকপকেটে এ দিলো। তার চোখ বেধে দিলো। হাতের বাধন খুলে দিলো৷ তারপর রণক বললো,"কোনোরকমের চালাকি করবেন না। "
অতীশ কে তার গাড়িতে বসালো। রণক বললো," সাথে সাথেই চোখের বাধন খুলবেন না আশা করি। হাহা।" তারপর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর অতীশ চোখের বাধন খুললো। আশেপাশে কেও নেই। গাড়ির জানালাও ঠিক। কখন ঠিক করেছে কে জানে। হয়তো অতীশ অনেকক্ষণ অজ্ঞান ছিলো। তার মাঝেই সব ঠিক করে দিয়েছে। ভোর হচ্ছে।
তারপর যলদি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরলো। ভাগ্যির আগামীকাল অফিস বন্ধ। অতীশ কাপড় না বদলিয়েই বিছানার শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। ঘরের আলাদা চাবি থাকে তার কাছে। সকালে তার ওয়াইফ ব্যাংকে চলে গেলো তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ঘুম ভাঙালো না। একটু অবাক হলো। সে তো সাধারণত এরকম দেরি করে না।
দুপুরে ঘুম থেকে উঠে অতীশ ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করলো। পরে মনে গত রাতের কথা। এখন স্বপ্নের মতো লাগছে। আসলেই কি স্বপ্ন ছিলো!
তখনই মনে পড়লো তার পেন্ড্রাইভের কথা!
Tags
Anti Super Hero
Justice
pdf
short story
Super Hero
Super Heroes
Superhero Story
Superheroes Story
গল্প
